জীবনের প্রথম স্কুটার কিনলাম!!!

অনেকদিন ধরে অল্পঅল্প করে টাকা জমাচ্ছিলাম একটা স্কুটার কিনবো বলে। আগে চালাতাম বাই-সাইকেল। বিডিসাইক্লেস্ট গ্রুপের সাথে বেশির ভাগ শুক্রবার করে রাইডে বের হতাম। সেই থেকেই দুই চাকার সাথে প্রেম। বাইসাইকেলে বেশ কিছু লম্বা টুর করেছিলাম। তবে মোটরসাইকেল চালাইতে একটু ভয় করতো। ক্লাচ/গিয়ার/ব্রেক সব কিছু সামলাইতে কষ্ট হইতো, সেই ভয়ে আরো বড় পেরেক মারলো করলাম একবার মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট থুতনিতে ৬টা সেলাই, হাতের আংগুলে চরম ব্যাথা পা‌ওয়া। এর পর থেকে আর কোনদিন মোটরসাইকেল চালাই নাই। পরে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার দেবার সময় একটু চালাইছিলাম আরকি।

ক্লাচ/গিয়ার এই ঝামেলা না থাকার কারণেই মূলত স্কুটারের প্রতি বেশি টান। বাই-সাইকেল আর এটা মোটামটি এক। এটায় শুধুমাত্র একটা তেল এ চলা ইনজিন আছে!! তবে আমাদের দেশের দামি ব্র্যান্ডের সাধ্যর মধ্য যে স্কুটার গুলা আছে সেগলা ভালো লাগে না, কোনটার চাকা ছোট, কোনটার ব্রেক মনমত না। পছন্দ হয় জিনানের বড় সাইজের দেখতে দারুন স্কুটার গুলা। কিন্তু যারেই জিগাস করি সেই বলে না! না! না! একসাথে ৩বার না বলে। মনে মনে ভাবি কারণটা আসলে কি! সবাই না না না বলে কেন!??

জিনান নিয়ে গুগলে দিলাম সার্চ, তাদের তথ্য অনুয়ায়ী জিনান মোটরস চায়নার অন্যতম সেরা স্কুটার ব্র্যান্ড! মনে আবার প্রশ্ন সেরা একটা ব্র্যান্ড তাহলে সবার এত না না না কেন!!! এবার যারা চালায় তাদের খুজে বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে খুজে পেলাম জিনান বাংলাদেশ এর আল ফাসানি ভাই এর ফেসবুক আইডি! চোখ বন্ধ করে এড এস ফ্রেন্ড বাটনে চিপা দিলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে কয়েক ঘন্টা পর নটিফিকেশন পেলাম তিনি আমার রিকোয়েস্টে সাড়া দিয়ে তার বন্ধু তালিকায় জায়গা দিয়েছে, তার সাথেই সরাসরি আলাপ হলো, তার কথায় বেশ আত্মবিশ্বাস পেলাম। এবার জিনান এর অফিসিয়ার ফেসবুক গ্রুপে ঢু মারা শুরু করলাম নিয়মিত। দেখলাম গাড়ি নিয়ে সবাই সন্তুষ্ট তবে সবার মনেই একটু কষ্ট তাদের সার্ভিস সেন্টার নিয়ে বেশির ভাগই খুব একটা সন্তুস্ট না।

এর ভিতর স্কুটার কেনার টাকা মোটামোটি জোগাড় হয়ে গেছে। এখন কি করব! জিনান না অন্য কিছু? কয়েকদিন মনের সাথে যুদ্ধ চললো। অবশেষে আজ ২৯ জানুয়ারী শুক্রবার, ভাবলাম যাই আগে গাড়ি খানা স্বচক্ষে দেখে আসি। বউ/বাচ্চা নিয়ে গেলাম তাদের তেজগা‌ও শোরুমে। প্রথমেই বিশাল বড় ধাক্কা খেলাম এটার সাইজ দেখে! এত বড়!! মনে মনে ভাবতেছি এতবড় বপু সামলাবো কেমনে!! বউ আর পোলার সেই পছন্দ, এখনেই নিবে! কইলাম কাছে টাকা নাই। সব ব্যংকে আর আজ শুক্রবার কাল শনিবার ব্যংক বন্ধ। ঠিক তখনেই সবুজ ভাই বলল কোন সমস্যা নাই আপনি ব্যাংক ট্রান্সফার করে গাড়ি নিয়ে চলে যান।

সুযোগ যখন পেলাম, সাথে সাথেই ব্যাংক ট্রান্সফার করে দিলাম। তারা স্কুটার রেডি করা শুরু করে দিলো। মনের ভিতর তখন তোলপাড় চলছে। অতি উত্তেজনা আরকি!

পাশের এক দোকান থেকে দুই খানা হেলমেট কিনে নিয় আসলাম। সন্ধ্যা হবার কিছু আগে স্কুটার রেডি করে রাস্তায় বের করে দিলো। ভাবতেছি মনে হয় বউ বাচ্চা নিয়ে চালায় যেতে পারবো না। ভাবলাম তাদের সিএনজিতে তুলে দেই। আর আমি সেটার পিছে পিছে চলে যাই। আবার মনে হলো হেলমেট কিনলাম দেখি একবার ট্রাই করে। বসতে বললাম, তারা বসল আমি বিসমিল্লাহ বলে থ্রোটলটা মোচড় দিলাম, স্কুটার চলা শুরু করলো। সেই মূহুর্তটা দারুন ছিলে। তবে মনে খুব ভয় ছিলো। জীবনে প্রথম স্কুটার চালাচ্ছি তা‌ও আবার ঢাকার ব্যাস্ত সড়কে! পেছন থেকে হর্ন এর শব্দ ভয় বাড়ায় দিচ্ছিলো। শোরুম থেকে ১ লিটার তেল ভরে দিছিলো বলল সামনে পাম্প থেকে ট্যাংকি ফুল করে নিবেন।

আমি আস্তে আস্তে করে চালাচ্ছিলাম, চন্দ্রিমা উদ্যানের সিগনালে এসে দাড়াতেই পা পরলো বালি উপর, ‌ওজন সামলাইতে না পেরে স্কুটার গেলো কাইত হয়ে। বউ বাচ্চা কোনরকমে কেমনে যানি দাড়ায়ে গেলো। যাইহোক স্কুটার সহ কারোই কোন ক্ষতি হয় নাই। আলহামদুলিল্লাহ। এবার আরো ধীরে ধীরে চলা শুরু করলাম। আসাদগেট এর অপোজিটে তালুকদার পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি লোড করে আস্তে আস্তে বাড়ি চলে এলাম।

এবার শুরু হবে ঠিক মত ব্রেক ইন পিরিয়ড টা শেষ করার মিশন। ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নো ডাবলিং, ৫০ এর উপর স্পিড না, ৫০০ কিলোমিটার পর পর ইনজিন ‌ওয়েল পরিবর্তন।

১ যুগ পরে এসেই কাপায়ে দিলো ভাইকিংস

পুরা ১২ বছর এদের নতুন কোন গান নাই। ফিরে এসেই সেই মাপের কাপানি দিয়া দিলো। অপেক্ষা টাইটেলের গানটা শুনতেই আছি মেলাক্ষণ থেকে। লিরিকস আর গানটা শেয়ার করি সবার সাথে।

Continue reading ১ যুগ পরে এসেই কাপায়ে দিলো ভাইকিংস

আমার হরেক রকম নাম

শুনেছি জন্মের পর আমার বড় ভাই দৌড় দিয়া আইসা বলছে যে আমার নাম মাহিন রাখতে হবে। আমার জন্ম হয়েছিলো ঈদুল আযহার আগের রাতে। তাই সবাই আমার নাম আজাহার রাখতে চাইছিলো। বড় হইলে সবাই আজাহাইরা বলে ডাকবে, এটা চিন্তা করে বাদ দিয়া মাহিন রেখে দেয়। Continue reading আমার হরেক রকম নাম

মিফতা জামানের এর অতঃপর

মাঝে মাঝে এমন হয়, কাজের খুব চাপ বা খুব মনযোগ দিয়ে যখন কিছু শেখা বা করার চেষ্টা করি, প্রিয় কোন একটা গান ইনফিনিটি লুপ দিয়ে কানে হেডফোন গুজে কাজ করতে বসে পরি। আজ ঠিক তেমনটা হয়েছে। একটা সমস্যা নিয়ে গত ৪৮ ঘন্টা ধরে ভুগতেছিলাম। আজ ১১টা থেকে মিফতা জামানের এর ২য় একক এলবাম দ্বীতিয়া এর খুব প্রিয় একটা গান অতঃপর চালিয়ে কাজ শুরু করলাম। অবশেষে এখন সন্ধ্যা ৬টায় সমাধানের মুখ দেখলাম। (আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রসংশা মহান আল্লাহর) তাই ভাবলাম গানের লিরিকসটা শেয়ার করি।

Continue reading মিফতা জামানের এর অতঃপর

যেমন সুন্দর দেখতে, তেমনি সুন্দর গীটার বাজায়, আর কন্ঠ!!!!!!!!!!!

সব কিছুর এত সুন্দর সমন্বয় খুব কম ই দেখা যায়। যে অদ্ভুতসুন্দরভাবে গীটার বাজাচ্ছিল চমৎকার লাগছিলো যেই মাত্র গাওয়া শুরু করল মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

শিল্পীর নাম Jacky Bastek অসাধারণ ভবিষৎ তার আমি নিশ্চিত।

Continue reading যেমন সুন্দর দেখতে, তেমনি সুন্দর গীটার বাজায়, আর কন্ঠ!!!!!!!!!!!

হুদা কর্ম

হঠাৎ আকাশ দখল হলো
দালান কোঠার সারিতে

নীল গুলো সব হারিয়ে গেলো
কালো ধোয়ার গাড়িতে

কোথায় গেলো ঘুড়ি গুলো
কোথায় গেলো পাড়া

আজকে আমি ঘরে থেকেও
শহুরে এক ঘরছাড়া………..

অসাধারণ কভার বাই Studio 13

ব্লাকের আমার পৃথিবী গানটার এমন অসাধারণ কভারআর দেখি নাই। পুরা টা দেখে একটাই কথা মুখ দিয়ে বের হয় ওয়াও!! ব্রিলিয়ান্ট ওয়ার্ক

আমার সুপার হিরো

আজ ১০ ডিসেম্বর, ঠিক এই দিনে আমার বাবা আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যান। আমার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী, সে সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তাকে থাকতে হতো। আমরা ২ ভাই ২ বোন, আমি সবার ছোট আর সবাই পড়াশুনার সবাই থাকতো পুঠিয়াতে। এমতাত্র আমি বাবার সাথে থাকতাম। একারণেই বাবার সাথে আমার সর্ম্পক ছিলো সবচেয়ে কাছের। আমার বাবা আমার সুপার হিরো। আমি আমার বাবার মতই একজন বাবা হতে চাই, তার মতই একজন স্বামী হতে চাই। Continue reading আমার সুপার হিরো

রূম নাম্বার ৪২০ এ ছিলো আমার বসবাস

ছোট্ট একটি ঘর,
ছোট্ট একটি খাট,
ছোট্ট একটি টেবিল,
আর একটা পানির জগ

ছিলো এক চিলতে আকাশ আমার
আর সেই প্রিয় জানলা।

Continue reading রূম নাম্বার ৪২০ এ ছিলো আমার বসবাস

আমার কি ক্ষমা করার কিছু আছে?

ঢাকায় বায়তুল মুকাররমের গেটের পাশে বাচ্চাদের খেলনা বিক্রি করত একজন বৃদ্ধ। বয়স সত্তরের কোঠায়। বয়সের ভারে নুজ্হ শরীরে দৃষ্টিশক্তিও এখন বেশ ক্ষীণ। তার ক্রেতারা দোকানে কিছু কিনতে এসে তার সাথে অল্প একটু কথা বললেই তার ক্ষিণ দৃষ্টি’র বাপারটা ধরতে পারত। ফলে যা হত, অনেকেই টাকা কম দিত, অচল নোট দিত, অথবা হয়ত দিতই না।

Continue reading আমার কি ক্ষমা করার কিছু আছে?